মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ১০:০১ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, সোনারগাঁও নিউজ :
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বহিরাগত আতঙ্কে আছেন সাধারণ ভোটাররা। আগামী ২৬ ডিসেম্বর বৈদ্যোরবাজার ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্যে প্রতিদিনই পার্শ্ববর্তী মোগরাপাড়া ইউনিয়ন থেকে এসে ভোট চাওয়ার নাম করে আওয়ামীলীগ ও যুবলীগের নেতারা হুমকি দিয়ে আতঙ্ক তৈরি করছে। ফলে সুষ্ঠু নির্বাচন না হওয়ার আশংঙ্কা করছে ওই ইউনিয়নবাসী। সম্প্রতি স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচার মাইক ভাংচুর ও নৌকার প্রার্থীর নির্বাচনী ক্যাম্পে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ভোট নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
জানা যায়, উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে চারজন প্রতিদ্বদ্বিতা করছেন। নৌকা প্রতীক নিয়ে আল আমিন সরকার, ঘোড়া প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ, আনারস প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাবেক চেয়ারম্যান মাহাবুব হোসেন সরকার ও হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মো. ইয়াছিন।
প্রতিদিনই নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা করছেন সাবেক সাংসদ অবদুল্লাহ আল কায়সার, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নু তার অনুসারীরা। এছাড়াও আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী নিয়ে প্রচারণা করছেন। আওয়ামীলীগের নেতারা যার যার অবস্থান থেকে ভোট চেয়ে প্রচারণা করলেও যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নুর বিরুদ্ধে ভোটের দিন হামলা, ভাংচুর ও ভোট কেন্দ্র দখলের হুমকি দিয়ে প্রচারণা অভিযোগ করেছেন ওই এলাকার ভোটররা। ফলে সুষ্ঠু ভোটের শংকায় রয়েছেন তারা। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই নির্বাচনী মাঠে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত ২৮ নভেম্বর নির্বাচনে সোনারগাঁওয়ের ৮ টি ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই নির্বাচনে শম্ভুপুরা ইউনিয়নে নৌকা প্রার্থীকে ভোট না দিলে রফিকুল ইসলাম নান্নু ওই ইউনিয়নের কেন্দ্র দখলসহ হামলা ও বাড়িঘর ভাংচুরের হুমকি দেয়। স্থানীয় প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে অবশেষে শঙ্কা দূর হয়।
বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হামছাদী গ্রামের ইকবাল হোসেন জানান, যতই ভোট ঘনিয়ে আসছে আমাদের মধ্যে আতংক বাড়ছে। উপজেলা যুবলীগের সভাপতি নান্নু বিভিন্ন স্থানে বক্তব্য দিয়ে আমাদের আতংকিত করছে। সে নৌকার প্রার্থী আল আমিন সরকারের পক্ষে মোগরাপাড়া থেকে এসে হামলা ও ভাংচুরের হুমকি দিচ্ছে। তবে ভোটের দিন পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ থাকবে কি না, সেটা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
হাড়িয়া গ্রামের আলমাছ মিয়া বলেন, আওয়ামীলীগের বিভিন্ন নেতারা এ ইউনিয়নে এসে নৌকার প্রচারনা করছেন। তবে নান্নুর বক্তব্য সুষ্ঠু নির্বাচনের শঙ্কা তৈরি করছে। এ ইউনিয়নের মানুষ শান্তিপ্রিয়। শঙ্কা দূর করতে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে বহিরাগত এ ইউনিয়নের আসা বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সাতভাইয়া পাড়া গ্রামের আলী বলেন, তিনজন প্রার্থীরই জনপ্রিয়তা রয়েছে। তবে হাড্ডাহাড্ডি হবে স্বতন্ত্র দুই প্রার্থীর মধ্যে। তাই সবাই জিততে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এ কারনেই শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আওয়ামী লীগ প্রার্থী জিততে মরিয়া হয়ে উঠেছে। সে ক্ষেত্রে ভোটের দিন বহিরাগতরা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটনাতে পারে।
অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম নান্নুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, আমি সুষ্টু নির্বাচনের পক্ষে । ভোটারদের আতংকিত হওয়ার কোন বক্তব্য দেই নি।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহাবুব সরকার বলেন, ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা ভোটারদের মধ্যে উশৃঙ্খল বক্তব্য দিয়ে আতংঙ্ক তৈরি করছেন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হলে বিপুল ভোটে জয়ী হবো।
স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রউফ বলেন, আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকেরা আমার কর্মী-সমর্থকদের হয়রানি করছেন। এতে ভোটারদের মধ্যে ভয় কাজ করছে। নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আমারই জয় লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।
আওয়ামী লীগের প্রার্থী আল আমিন সরকার বলেন, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে ভিত্তিহীন অভিযোগ করা হচ্ছে। নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক রয়েছে। আশা করি আমি জয়লাভ করবো। তবে বহিরাগত কেউ নয় আওয়ামীলীগের নেতারা আমার পক্ষে বিভিন্ন স্থানে ভোট চেয়ে প্রচারণা করছেন।
সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউসুফ উর রহমান বলেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। ভোটের দিন পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। আতংকিত হওয়ার কোন কারণ নেই। ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভোটাররা অবাধে ভোট দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
আপনার মতামত দিন